কীর্তনখোলায় তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ চারজন অগ্নিদগ্ধ

0
29
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে গত শনিবার রাতে জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরে যায়। অদূরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় অল্পের জন্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেল।
রাত আটটার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ট্যাংকারের চারজন কর্মী দগ্ধ হন। তাঁরা হলেন মো. হুমায়ুন কবির (৫০), মো. শহীদুল (৫০), আবু সুফিয়ান (২৪) ও নাজমুল হক (৪০)। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে হুমায়ুন, শহীদুল ও নাজমুলকে। অপেক্ষাকৃত কম দগ্ধ সুফিয়ান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনা সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস বরিশালের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে নগরের চাঁদমারি খেয়াঘাটসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে যমুনা ওয়েল কোম্পানির তেলবাহী ট্যাংকার এমটি অ্যাংকর এজের ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দু-তিন মিনিট দূরত্বে ছিল ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ জাহাজ অগ্নিঘাতক। ওই জাহাজে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় বরিশাল।
ফারুক হোসেন বলেন, আগুন নেভাতে একটু দেরি হলে ইঞ্জিনরুম থেকে আগুন ট্যাংকারে থাকা পেট্রল-ডিজেলে ছড়িয়ে পড়ত। তখন নদী আগুনে ছেয়ে যেত। এতে নদীতে থাকা লঞ্চ, স্পিডবোট, ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে আগুন ছড়িয়ে পড়ত। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
রাতেই সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে তেলবাহী ট্যাংকারের ইঞ্জিনরুম দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। পাশে থাকা আরও দুটি কক্ষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওই কক্ষে থাকা থালাবাসন, আসবাব নষ্ট হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বিস্ফোরণে ট্যাংকারের পাশে একটি ছিদ্র হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে আটকে দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বরিশাল যমুনা তেল ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাড়ে নয় লাখ লিটার ডিজেল ও পেট্রল রয়েছে ওই ট্যাংকারে। ট্যাংকার থেকে ডিপোতে তেল তোলার জন্য রাত আটটার দিকে ইঞ্জিন চালু করা হয়। তখনই বিকট শব্দে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নষ্ট হয়ে যায় ট্যাংকারের ইঞ্জিন। তবে তেলের কোনো ক্ষতি হয়নি।
ট্যাংকারটির সুকানি মো. নাজমুল হক বলেন, তেল খালাসের জন্য ট্যাংকারটি কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করা ছিল। শনিবার থেকে তেল উত্তোলনের অনুমতি মেলে। ট্যাংকারে সাতজন স্টাফ ছিলেন। ইঞ্জিনরুমের কাছাকাছি থাকা চারজনই দগ্ধ হয়েছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার শাহিন বলেন, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে হুমায়ুন কবির ও নাজমুল হকের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আর শহীদুলের মাথা ও কানে ক্ষতসহ ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাঁদের শনিবার রাতেই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here