কুষ্টিয়ার মেয়েদের অবদান।কুষ্টিয়ার ৬ গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে মহিলা কৃষাণি

0
339
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় পুরুষ নয়, নারীরাই পৃথিবীতে প্রথম কৃষি কাজের সূচনা করেছিল। সেটা কোন আদিকালের কথা। তবে এখন কৃষি নারীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এরই মধ্যে কৃষিতে ছোঁয়া লেগেছে আধুনিক প্রযুক্তির। এতোদিন পুরুষদের এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে নারীরা ছিলেন পিছিয়ে। তবে এবার দেশের প্রথম মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। এই ক্লাব বদলে দিচ্ছে উপজেলার ৬টি গ্রামের শতাধিক কৃষানির জীবনযাত্রা। প্রযুক্তি ক্লাবে হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে কৃষির আদ্যেপান্ত শিখছেন তারা। বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি, ফলমূলসহ নানা জাতের ফসল চাষ করছেন এসব নারী।
কুমারখালী উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়ন। এখানকার নারীদের কৃষিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন বছর খানেক আগে স্থাপন করেন দেশের প্রথম মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব। হাতেগোনা কয়েকজন নারীকে নিয়ে এ ক্লাবের যাত্রা শুরু হলেও এখন এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই। সাঁওতা, পাইকপাড়া, ইছাখালী, কাঞ্চনপুর, শ্যামপুর ও প্ইাকপাড়া গ্রামের ২ হাজার ৭০০ নারী সপ্তাহে দুই দিন বসত বাড়ির আঙ্গিনায় চাষাবাদ পদ্ধতি, জৈব সার তৈরিসহ কৃষির খুঁটিনাটি শিখছেন এ ক্লাবে এসে। কৃষি প্রযুক্তি ক্লাবের সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আহোরিত জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। প্রত্যেকে বাড়িতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার না করেই গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। এসব খামারে ফলের গাছ, হরেক রকমের শাক সবজি চাষ করছেন তারা। শতভাগ নিরাপদ এ সবজি ও ফল নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করছেন বাজারেও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৬টি গ্রামের ২ হাজার ৮৫০ বাড়ির আঙিনায় সযতেœ গড়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট কৃষি খামার। যেখানে শোভা পাচ্ছে, মুলা, পালংক শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়োসহ নানা জাতের সবজি। রয়েছে কুল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের ফলের গাছও।
সাঁওতা নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঋতু খাতুন বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজের চাষ করা সবজিতেই সংসারের চাহিদা মিটছে, বাজার থেকে কেনার প্রয়োজন পড়ছে না। একই ক্লাবের সদস্য রেসমা বেগম বলেন, তাদের উৎপাদিত সবজি বা ফলে কোন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। মাটির ঊর্বরতা রক্ষায় জৈব সার আর পোকা মাকড় দমনে বালাই নাশক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্যামপুর ক্লাবের সদস্য আমেনা খাতুন বলেন, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে চলতি শীত মৌসুমে তিনি ২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। ওই ক্লাবের আরেক সদস্য রজিনা খাতুন বলেন, তার স্বামী এই কৃষি খামার গড়তে তাকে খুব সহযোগিতা করে। তবে প্রশিক্ষণ না পেলে তারা এই খামার গড়তে পারতেন না বলে জানান রোজিনা।
ক্লাবের উদ্যোক্তা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে তিনি নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব চালু করেছেন। ৬টি গ্রামে তিনি এ ধরনের ৭টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। কোন পরিবার যাতে অপুষ্টিতে ভোগে সেই জন্য তিনি এই ক্লাবের মাধ্যমে এলাকার নারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। এছাড়া ৬টি গ্রামের ২ হাজার ৮৫০টি বাড়ির প্রতিটিতে খামারজাত সার ও ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে সবজি খামার অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে কলা, পেপে ও একটি করে সফেদা গাছ লাগানো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব ৬টি গ্রামের নারীদের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে একদিকে নারীরা যেমন পরিবারে ভেজালমুক্ত পুষ্টিকর সবজি ও ফল যোগান দিতে পারছে অন্যদিকে তারা দিন দিন আত্মনির্ভরশীল হয়েছে উঠছে। এই পদ্ধতি সারা দেশে চালু হলে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন এই কৃষিবীদ।চারঘাটে আমের বাম্পার
ফলনের সম্ভাবনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here