চুল পড়া বন্ধের ৬ উপায়

0
76

চুল পড়া সমস্যা শুধু আমাদের দেশেই নয়, অন্য দেশেও মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা। রাস্তায় হাঁটলে কম বেশি অনেককেই দেখা যায় যাদের স্টেডিয়াম খালি 😆 । অনেকেই আবার নতুন নতুন চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন। তাদের চুল পড়া বন্ধের উপায় নিয়েই আজকের পিপীলিকার এই পোস্ট…

বাংলাদেশে একটা জিনিসের কোন অভাব নেই। সেটা হচ্ছে হাতুড়ে ডাক্তারের। প্রতিটা পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের কাছে চুল পড়া সমস্যার কোন না কোন সমাধান থাকেই। কারোটা যুক্তিযুক্ত আবার কারোটা নিতান্তই অযৌক্তিক। যার সমাধান যেমনই হোক না কেন, আমরা চেষ্টা করবো যৌক্তিক কিছু তুলে ধরার জন্যে। তো শুরু করা যাক।

১. ভিটামিন নিন

ভিটামিন

চুলের জন্যে শরীরের সঠিক ভিটামিন সরবরাহ করা নিতান্তই প্রয়োজনীয়। দরকারি ভিটামিনের অভাবে চুল পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ট্যাবলেট গুলো খেয়ে সেই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। ভিটামিন ই মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বকের কোষগুলোকে উৎপাদনক্ষম রাখে। ভিটামিন এ হচ্ছে অ্যাণ্টি-অক্সিডেন্ট।  এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে সেবাম (তৈলাক্ত অংশ) উৎপাদন অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। আর ভিটামিন বি আমাদের শরীরে মেলানিন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমাদের গায়ের রঙ এই মেলানিনের কারণেই হয়ে থাকে, আর চুলের রঙও। তাই যদি শরীরে মেলানিনের উৎপাদন বাড়ে তাহলে তার প্রভাব আমাদের চুলের রঙের ক্ষেত্রেও পরবে। আর তাছাড়া মেলানিন আমাদের রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।

*ডাক্তারের পরামর্শ  ব্যতীত ভিটামিন নিবেন না।

২.গরম তেল চিকিৎসা ওরফে হট অয়েল ট্রিটমেন্ট 😛

গরম তেল চিকিৎসা শব্দটা হয়তো নতুন নতুন শুনলেন 😉 । কারণ এটা প্রচলিত শব্দ না। হট অয়েল টিটমেন্ট শব্দটাই বহুল প্রচলিত। নারিকেল তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি যেকোনো প্রাকৃতিক তেলকে কোন পাত্রে নিয়া হালকা করে গরম করে নিন। এরপর হাল্কা গরম তেলকে মাথার ত্বকে ভালো করে মেসেজ করে নিন। এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর ভালো শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ঢুয়ে ফেলুন। চুলের জন্যে হট অয়েল ট্রিটমেন্ট বেশ উপকারি। *বেশি গরম তেল ব্যবহার করলে হাত আর মাথার ত্বক দুইই পুড়ে যেতে পারে

৩. গ্রিন টি ব্যবহার করুন

সবুজ চাবাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্রিন টি পাওয়া যায়। সেখান থেকে আপনার পছন্দ মতো ব্র্যান্ডেরটা কিনে নিন। এবার হাল্কা গরম পানি একটা কাপে নিয়ে সেটাতে দুইটা টি ব্যাগ ব্যবহার করুন। পানি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে সারা মাথায় সেটাকে ব্যবহার করুন। প্রায় এক ঘণ্টা পরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। গ্রিন টিতে অ্যাণ্টি অক্সিডেন্ট আছে, যা মাথার ত্বকে সেবামের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

৪. চুলে পেয়াজের রস ব্যবহার করুন

পেয়াজের রসবাজারে দেশি পেয়াজ ভালো দেখে কিনে এনে সেটাকে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে সেই রসটুকু মাথার ত্বকে মাখুন।চুল পড়া বন্ধে  নিয়মিত পেয়াজের রস ব্যবহার করা বেশ উপকারি। তাছাড়া আদার রসও মাথার ত্বকে ব্যবহার করা যাবে।

৫. মাথায় যতটুকু চুল আছে তার যত্ন নিন

যেহেতু এই পোস্টটি আপনি পড়ছেন তাই ধরেই নিচ্ছি আপনার মাথায় চুলের পরিমাণ বর্তমানে তুলনামূলক কম।  তাই বর্তমানে যতটুকু অবশিষ্ট আছে সেইটুকুর যত্ন নেয়া উচিৎ।

  • চুলে কমদামী জেল বা অন্য কোন সস্তা চুলের প্রোডাক্ট লাগাবেন না।
  • গোসল করার পর তোয়ালে দিয়ে জোড়ে জোড়ে চুল ঘসে শুকানোর চেষ্টা করবেন না।
  • অনেকেরই অভ্যাস আছে ভেজা চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানোর। এই অভ্যাসকে পরিত্যাগ করতে হবে।
  • সাইকেল বা হোন্ডা চালালে নিশ্চয়ই হেলমেট পড়তে হয়। যার ফলে মাথার ত্বক ঘামে। তাই হেলমেট খোলার সাথে সাথেই মাথার অতিরিক্ত ঘাম মুছে ফেলতে হবে। ঘামে থাকা এসিড চুল পড়ার জন্যে দায়ী।

৬.নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখুন

মানসিক চাপমানসিক চাপ চুল পড়ার পেছনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সবসময়েই নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রেখে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন। নিজের মনকে সুন্দর করে গড়ে তুলুন। তাহলেই নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখতে পারবেন।

পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান, বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, আপনি যা করতে ভালোবাসেন সে কাজের জন্যে সময় দিন। নিয়মিত ২০-৩০ মিনিটের ব্যায়াম করুন, সাইকেল চালান তাহলে নিজেকে মানসিক চাপ মুক্ত রাখার আশা করতে পারেন। 🙂

আপনি কি এই ৬টি উপায় ছাড়াও অন্য কোন উপায় অবলম্বন করেন? করলে সেটা কি? কমেন্টে জানান।

তো এই ছিল আমাদের আজকের চুল পড়া বন্ধের ৬ উপায়। পিপীলিকায় ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পোস্ট হয়ে গেছে চুল পড়া নিয়ে। আমাদের বেশিরভাগ ভিজিটর গুগল থেকে এই বিষয়ের উপর সার্চ করেই আসছেন। সে থেকে আমরা ধরে নিয়েছি চুল পড়া নিয়ে পাঠকদের চাহিদা বেশি। সেই চাহিদা পূরণ করার জন্যেই আমাদের এই প্রয়াস। এই পোস্ট গুলোও আপনার কাজে লাগতে পারে –

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here