দাঁতের রোগ ও প্রতিকার

0
99
দাত
দাত

দাঁতের সমস্যা সব বয়সেই দেখা যায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা বাড়ে এবং তার প্রকৃতিও বিভিন্ন হয়। দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার নিয়ে সাপ্তাহিক‘র সঙ্গে কথা বলেছেন সিএমসি ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সৈয়দ মোরশেদ মওলা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরিফুর রহমান
সাপ্তাহিক : বয়স্কদের ক্ষেত্রে দাঁতের কি কি সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : বয়স্ক লোকদের দাঁতে ও মুখ গহ্বরে সাধারণত নিম্নলিখিত সমস্যাসমূহ পরিলক্ষিত হয়। যথা- ব্যবহারজনিত দন্ত ক্ষয়রোগ, জীবাণু গঠিত দন্তক্ষয় মাড়ির রোগ (পায়রিয়া) দন্তহীনতা, চোয়ালের জয়েন্টের রোগ, থুতুর প্রবাহ কমে যাওয়া (মুখ গহ্বর শুষ্কতা), মুখ ঝিল্লির রোগ, বিভিন্ন ধরনের ক্ষত বা আলসার ইত্যাদি।
সাপ্তাহিক : এই সমস্যা থেকে প্রতিকার কিভাবে পাওয়া সম্ভব।
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : প্রথমেই বলব ১. দন্তবিধি মেনে চলা। যেমন সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
২. রোগের শুরুতেই দাঁতের চিকিৎসা করানো।
৩. ধারাল দাঁতের ধারাল অংশগুলো মসৃণ করা।
৪. হারানো দাঁত দ্রুত প্রতিস্থাপন করা।
৫. শারীরিক সমস্যাসমূহ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ।
৬. বিভিন্ন ধরনের বদঅভ্যাস যেমন- বিড়ি, সিগারেট, পান, তামাক, জর্দা, মদ (অ্যালকোহল) ইত্যাদি পরিহার করা।
৭. ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জন কর্তৃক বছরে দুইবার দাঁত ও মুখ গহ্বর পরীক্ষা করা।
সাপ্তাহিক : বাচ্চাদের সাধারণত কি ধরনের দন্ত সমস্যা হয়ে থাকে? এর থেকে প্রতিকার পাবার উপায় কি?
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : বাচ্চাদের সাধারণত যে সমস্ত দন্ত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছে ১. দন্তক্ষয়
২. অসামঞ্জস্য বা এলোমেলো দাঁত।
৩. ঠোঁট ও তালু ফাটা।
৪. সময় মতো দাঁত না ওঠা এবং না পড়া।
৫. অপরিণত বয়সে দুধদাঁত ফেলে দেয়া।
৬. চোয়ালে বিকৃত গঠন।
৭. চুষনি ব্যবহার না করা, কিংবা আঙ্গুল না চুষণ।
এর থেকে প্রতিকার পেতে হলে ১. ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধের বিকল্প কোনো খাবার গ্রহণ না করা। ২. চিনিযুক্ত খাবার পরিমিত রাখা এবং খাবারের সঙ্গে সঙ্গে দাঁত পরিষ্কার করা।
সাপ্তাহিক : সংবেদনশীল (Sensitive) দাঁত কি? এ সমস্যা দেখা দিলে করণীয় কি এবং এর থেকে প্রতিকার পাবার উপায় কি?
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : যদি কোনো কারণে দাঁতের
উপরিভাগের এলাস্ফে স্তর বা সিমেন্টাম ক্ষয়ে যায় তাহলে দাঁত অতি সংবেদনশীল হয়। অর্থাৎ ঠাণ্ডা, গরম, মিষ্টি, টক ইত্যাদি খেলে দাঁত শির শির করে। একেই সংবেদনশীল (Sensitive) দাঁত বলে।
এর কারণসমূহ হচ্ছে :
১. কয়লা, কালামাজন, পাউডার, ছাই ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
২. সঠিক ব্যবহার বিধি অনুযায়ী ব্রাশ ব্যবহার করতে না জানা।
৩. দাঁত দিয়ে সুতা, নখ, তার ইত্যাদি কাটা?
৪. আঘাতজনিত কারণে দাঁত ভেঙে যাওয়া।
এর থেকে প্রতিকার পাবার উপায় হচ্ছে :
সাধারণত উপরিউক্ত কারণসমূহ থেকে দাঁত রক্ষা করতে পারলেই দন্তক্ষয় রোধ করা যায়। দাঁত ক্ষয় হয়ে গেলে একজন অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে।
সাপ্তাহিক : দাঁতের রং পরিবর্তনের কারণ কি? এবং এর প্রতিকার কি?
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : দাঁতের রং পরিবর্তনের কারণগুলো হচ্ছে:
১. আঘাতজনিত কারণে দন্তমজ্জা নষ্ট হলে।
২. বিভিন্ন রোগজনিত কারণ-যেমন জন্ডিস, জ্বর ইত্যাদি হলে।
৩. গর্ভাবস্থায় মায়েদের বা ১০ বছরের নিচে বাচ্চাদের টেট্রাসাইক্লিনজনিত ওষুধ খাওয়ানো।
৪. অতিরিক্ত ক্লোরাইডযুক্ত খাবার গ্রহণ।
৫. বিভিন্ন ধরনের রং যুক্ত খাবার অপরিষ্কার যুক্ত পানি, ধূমপান, জর্দা ইত্যাদি ব্যবহার করা।
এর থেকে প্রতিকার পাবার উপায় হচ্ছে :
সাধারণত উপরিউক্ত কারণসমূহ প্রতিরোধ করতে পারলে দাঁতের রঙের কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে কোনো কারণে হয়ে গেলে অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন দ্বারা উপযুক্ত চিকিৎসা করানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে।
সাপ্তাহিক : মাড়ির রোগ কেন হয়। মাড়ির রোগ হলে কি ধরনের চিকিৎসা নিতে হয়।
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : মাড়ির রোগ সাধারণত দাঁতে খাদ্যকণা জমে একটা শক্ত জীবাণুযুক্ত আবরণ (ডেন্টাল প্লাগ) তৈরি হয় এবং তার থেকে মাড়ির রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও আরও অন্য কারণে মাড়ি রোগ হতে পারে যেমন- ডায়াবেটিস।
মাড়ির রোগ হলে অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন দ্বারা স্কেলিং (দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার) করানো এবং মাউথ ওয়াস ব্যবহার করা। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে মুখ ও দাঁতের যতœ নিতে হবে।
সাপ্তাহিক : দাঁতের ক্ষয়রোগ কি এবং এই ক্ষয়রোগ কিভাবে প্রতিকার করা সম্ভব?
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : দাঁতের ভেতরে গর্ত হওয়াকে দাঁতের ক্ষয় রোগ বলে। মূলত মিষ্টি জাতীয় আঁঠালো খাদ্যকণা দুই দাঁতের ফাঁকে ও মধ্যখানে জমে দাঁতের ক্ষয়রোগের সৃষ্টি হয়।
দাঁতের এই ক্ষয়রোগ থেকে প্রতিকার পেতে, ব্যথা হওয়ার পূর্বে ফিলিং করে দাঁতের ক্ষয়রোগের প্রতিকার করা যায়।
ব্যথা শুরু হলে তখন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন দ্বারা রুট ক্যানাল চিকিৎসা করিয়ে দাঁতটাকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা যায়।
সাপ্তাহিক : কৃত্রিম দাঁতের যতœ কীভাবে নিতে হবে।
সৈয়দ মোরশেদ মওলা : কৃত্রিম দাঁতের যতেœর ক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলি মেনে চলতে হয়। যেমন : কৃত্রিম দাঁত প্রতিদিন সকালে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
* আর রাতের বেলায় কৃত্রিম দাঁত এন্টিসেপটিক সলিউশন এর ভেতর ডুবিয়ে রাখতে হবে।
* সাবধানে দাঁতগুলো পরিষ্কার করতে হবে যেন হাত থেকে নিচে না পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here