পিএসএল ফাইনালে ১৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষী

0
118

পিএসএল ফাইনাল দিয়ে ক্রিকেট যেন নতুন করেই জীবন পাচ্ছে পাকিস্তানের মাটিতে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনে গেছে পাকিস্তান থেকে। পিএসএলের ফাইনাল পাকিস্তানে হওয়া মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফেরা নয়। তবে বিদেশি ক্রিকেটাররা থাকছেন বলে ক্রিকেটের জাঁকজমক অন্তত ফিরতে চলেছে সেখানে। যে শহরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর হামলা হয়েছিল, পিএসএলের ফাইনাল হচ্ছে সেই লাহোরেই।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেট খেলার জন্য পাকিস্তান কি সত্যিই নিরাপদ? পাকিস্তান যে ক্রিকেট খেলার জন্য নিরাপদ তা প্রমাণ করতে মরিয়া পিসিবি। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা এড়াতে রীতিমতো যুদ্ধ-প্রস্তুতি নিয়েই পাকিস্তান বোর্ডকে আয়োজন করতে হচ্ছে এই ফাইনাল। যদিও যুদ্ধ-প্রস্তুতি মন ভরাতে পারেনি পিএসএল ফাইনালে ওঠা দুই দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস ও পেশোয়ার জালমির মূল বিদেশি ক্রিকেটারদের। এই ফাইনাল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কেভিন পিটারসেন, টাইমাল মিলস, লুক রাইট, নাথান ম্যাককালাম, ক্রিস গেইল, কুমার সাঙ্গাকারা ও কাইরন পোলার্ডের মতো তারকারা। চটজলদি নতুন বিদেশি ক্রিকেটাররা পূরণ করেছেন তাদের জায়গা। তবে সেটি লাহোরের বহুল-আলোচিত এই ফাইনালের গ্ল্যামার বাড়াতে খুব একটা কাজে আসছে না।
কেবল বিদেশি খেলোয়াড়েরাই নন, লাহোরের ফাইনাল থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে পিএসএলের মূল সম্প্রচার সংস্থাও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি ভেন্যু দুবাই, শারজা, আবুধাবি থেকে খেলা সম্প্রচারে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু লাহোরের প্রসঙ্গ উঠতেই বেঁকে বসেছে তারা। পিসিবির অবশ্য বিকল্প পরিকল্পনা ছিল, তাই নতুন সম্প্রচার সংস্থা খুঁজে নিতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু হালের আধুনিক সম্প্রচারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি লাহোরের ফাইনালে থাকছে না। যেভাবেই হোক লাহোরের ফাইনালটা হচ্ছেই। পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটেপ্রমীদের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকছে এই ফাইনালকে ঘিরে। এরই মধ্যে নাকি গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে মোতায়েন রয়েছে বিশেষ বাহিনীও। ছবি: রয়টার্সবিপুল নিরাপত্তা-ব্যবস্থার কড়াকড়ি পিএসএল ফাইনালকে দিয়েছে অন্য মাত্রা। বাংলাদেশর সময় আজ রাত ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি। গত মাসেই লাহোরের জনবহুল দুটি জায়গায় বোমা হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পরেও এ ধরনের আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি থাকারই কথা। কিন্তু পিএসএলের আজকের ফাইনাল খুব সম্ভবত অতীতের সব রেকর্ডই ভেঙে দিচ্ছে। সামরিক, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষী পাহারায় থাকবেন পিএসএল ফাইনালে।
নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ঘিরে থাকবে ৩০০ স্বাস্থ্য ও দমকলকর্মী। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত কাজে লেগে যেতে তাদের সহায়তা করবে আরও শ খানেক স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়াও স্টেডিয়াম ঘিরে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে থাকবে থাকবে ৩০টি উদ্ধারকারী দল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here