বেতন বাড়ায় খুশি

0
88
বাংলাদেশের ক্রিকেটার
বাংলাদেশের ক্রিকেটার

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, খেলোয়াড়দের দাবি পুরোপুরি পূরণ করেনি বিসিবি। ক্রিকেটারদের দাবি ছিল, এ প্লাস শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে মাসে সাড়ে ৬ লাখ টাকা হোক। বিসিবি করেছে ৪ লাখ টাকা। একমাত্র ‘ডি’ শ্রেণিতেই খেলোয়াড়দের দাবি অনুযায়ী ১ লাখ টাকা বেতন করা হয়েছে।

না, ক্রিকেটারদের দিক থেকে কোনো অসন্তোষ নেই এ নিয়ে। বিসিবি যে পরিমাণ বেতন বাড়িয়েছে, সেটাই হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন সবাই। সিনিয়র খেলোয়াড়েরা বিসিবিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন বেতন বাড়ানোর জন্য। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল মুঠোফোনে বলছিলেন, ‘অবশ্যই আমরা খুশি। আগে যা ছিল, তা থেকে অনেক বেশি বেতন বাড়ানো হয়েছে। এটা আমাদের আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা দেবে।’ বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথায়ও, ‘এটা আমাদের জন্য আনন্দের খবর। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য। আমি নিশ্চিত, ওরা এখন আরও ভালো খেলার চেষ্টা করবে। আর্থিকভাবে আরও বেশি নিরাপদ বোধ করবে।’ আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহও জানালেন তাঁর সন্তুষ্টির কথা, ‘বেতন নিয়ে খুব বেশি কথা না বলাই ভালো। তবে যেটাই হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি খুব খুশি।’

খেলোয়াড়েরা বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলেছিলেন মূলত দুটি কারণে। একটা হলো, খেলা ছাড়ার পর যেন কোনো ক্রিকেটারকে আর্থিক সংকটে পড়তে না হয়। দ্বিতীয়ত, তরুণ ক্রিকেটাররা যেন ভালো খেলতে আরও উৎসাহ পান। মুশফিকের কথা, ‘আমি এমন অনেক ক্রিকেটারকে দেখি, যারা একসময় জাতীয় দলের হয়ে অনেক ভালো খেলেছেন। কিন্তু এখন তাঁদের অবস্থা ভালো নয়। এসব দেখে ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু হলেও চিন্তা হয়। আমাদের ক্যারিয়ার খুব ছোট। সে জন্য আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টা খুবই জরুরি।’

তরুণ ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেওয়ার জন্যও এ রকম একটা কিছু দরকার ছিল বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘বোর্ড সভাপতির কাছে বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোই হয়েছিল তরুণ ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। “এ প্লাসে”র মতো নিচের দিকেও ভালো অঙ্কের বেতন বাড়ানো হয়েছে। তারা এখন চেষ্টা করবে আরও ভালো খেলে কীভাবে “এ প্লাস” বা “এ”, “বি” শ্রেণিতে আসা যায়। একটা ব্যাপার এখন নিশ্চিত—ভালো খেললে বেতন বাড়বে।’

বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোর সময় ক্রিকেটাররা অন্য কয়েকটি দেশের খেলোয়াড়দের বেতনের সঙ্গে নিজেদের বেতনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেতন অন্তত শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের মতো হোক। অবশ্য দাবি জানানোর সময়ই ক্রিকেটাররা মোটামুটি নিশ্চিত ছিলেন, বিসিবি তাঁদের দাবি পুরোপুরি পূরণ করবে না। দেশের আর্থসামাজিক বিষয়টা যে কাজ করেছে তাঁদের মাথায়ও! আর বেতনের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেট আর বোনাস থেকেও তো খেলোয়াড়দের আয় নেহাত কম নয়। মুশফিকের সেটি স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, ‘আমরা বোনাস বাবদও অনেক টাকা পাই। কোনো একটা সিরিজ বা ম্যাচ জিতলে প্রধানমন্ত্রী এবং বিসিবির কাছ থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা যে পরিমাণ বোনাস পায়, আর কোনো দেশের খেলোয়াড়েরা তা পায় কি না সন্দেহ আছে। এটাও একটা বড় অনুপ্রেরণা।’

বেতনের সঙ্গে বেড়েছে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিও। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকে উইনিং বোনাস বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও পরশুর বোর্ড সভায় সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন যে বেতন ঘোষণা করেছেন, সেটার পুরোটাই অবশ্য খেলোয়াড়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে না। করের টাকা কেটে রাখা হবে এখান থেকেই। বাৎসরিক আয়ভেদে সেটা খেলোয়াড়দের বেতনের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here