সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছু প্রশ্ন উত্তর

0
57
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রীদের জন্য ডিজাইন অফ স্ট্রাকচার সব চেয়ে কমন একটা বিষয়। যা প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ার ছাত্রছাত্রীর জন্য বাধ্যতা মূলক ডিজাইন অফ স্ট্রাকচার ।এর কোন বিকল্প আমার জানা নাই।

১) কলাম ক্যাপিটাল বলতে কি বুঝায় ?
উত্তরঃ ফ্লাট স্লাবের নিচে ব্যবহৃত কলামের উপরের অংশ ক্রমশ প্রশস্ত রাখা হয় । কলামের উপর এ প্রশস্ত অংশকে কলাম ক্যাপিটাল বলে । সাধারণত কলাম ক্যাপিটালের পরিমাণ 0.20L হতে 0.25L এর মধ্যে হয়ে থাকে ।

২) এনভারমেন্টাল লোড বা পরিবেশগত লোপ বলতে কি বুঝায় ?
উত্তরঃ পরিবেশ থেকে আগত বিভিন্ন প্রকার লোড যা কাঠামোর উপর আরোপিত হয় তাকে এনভারমেন্টাল লোড বলে । যেমন: বরফ বাতাসের চাপ, মাটির চাপ, ভূ-কম্পন, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি ইত্যাদি ।

৩) ড্রপ প্যানেল কী ?
উত্তরঃ কলামের উপর এবং স্ল্যাবের ঠিক নিচে বর্গাকার বা বৃত্তাকারের ন্যায় স্ল্যাবের পুরুত্বের তুলনায় অধিক পুরুত্বের অংশকে ড্রপ প্যানেল বলা হয় । কলামের আকারের উপর ড্রপ প্যানেলের আকার নির্ভর করে । ACI কোড অনুযায়ী ড্রপ প্যানেলের যেকোন দিকের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট দিকের স্ল্যাব দৈর্ঘ্যের কমপক্ষে 0.33 গুন হওয়া উচিত ।

৪) কোন অবস্থায় একমুখী স্ল্যাব নির্মাণ অপরিহার্য় হয় ?
উত্তরঃ স্ল্যাবের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত যখন দুই বা দুই এর বেশি হয় এবং স্ল্যাবের লোড কেবলমাত্র প্রস্থ বরাবর একদিকে বিতরিত হয় বলে বিবেচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে একমুখী স্ল্যাব ডিজাইন করা হয় ।

৫) ফ্লাট স্ল্যাব নির্মাণে ড্রপ প্যানেলের পরিমাণ উল্লেখ কর ?
উত্তরঃ ACI কোড অনুযায়ী ড্রপ প্যানেলের যেকোন দিকের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট দিকের স্ল্যাব দৈর্ঘ্যের কমপক্ষে 0.33 গুন হওয়া উচিত । ড্রপ প্যানেহারের ফলে ঐ অংশের মধ্যে সৃষ্ট টেনসাইল, কম্প্রেসিভ ও শিয়ার স্ট্রেসের মান কমে যায় ।

৬) কোন অবস্থায় দ্বিমুখী স্ল্যাব ডিজাইন বিবেচনা না করে একমুখী স্ল্যাব ডিজাইন বিবেচনা করা হয় ?
উত্তরঃ যে সমস্ত স্ল্যাব-এর প্রস্থ বরাবর প্রান্ত দুটি সমান্তরাল বিমের বা দেওয়ালের উপর অবস্থান করে এবং যে স্ল্যাবে শুধুমাত্র একদিকে প্রধান লোহা ব্যবহার করা হয় এবং যে স্ল্যাবের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অনুপাত ২ এর অধিক এ ক্ষেত্রে Tow Way Slab ডিজাইন বিবেচনা না করে One Way Slab Design বিবেচনা করা হয় ।

৭) ফ্ল্যাট স্ল্যাব বলতে কী বুঝায় ? ACI কোন অনুযায়ী ফ্ল্যাট স্ল্যাব ডিজাইনের শর্ত কী কী ?
উত্তরঃ যে সমস্ত স্ল্যাব কোন প্রকার বিম বা গার্ডারের উপর অবস্থান না করে সরাসরি কলামের উপর স্থাপন করা হয়, সে সমস্ত স্ল্যাবকে ফ্ল্যাট স্ল্যাব বলে । সাধারণত যে সমস্ত স্ল্যাব প্রায় বর্গাকৃতি এবং যার প্রস্থের মান অপেক্ষা দৈর্ঘের মান 1.33 গুন-এর বেশি হয় না, সে সমস্ত ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট স্ল্যাব ডিজাইন করা হয় ।

৮) আর. বি. স্ল্যাব বলতে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের জন্য আমাদের দেশে অনেক স্থানে এ ধরনের স্ল্যাব ডিজাইন করা হয় । আর. সি. সি. স্ল্যাবের ক্ষেত্রে টেনসাইল রডকে সঠিক স্থানে ধরে রাখার জন্য যতটুকু কংক্রিটের প্রয়োজন, ঐ পরিমাণ কংক্রিট ছাড়া অন্য অংশ ফাঁকা রাখা যেতে পারে । আর এ ফাঁকা স্থানগুলো ইট দ্বারা পূর্ণ করা যেতে পারে । সাধারণত ধারাবাহিক আর. সি. সি. রিব তৈরি করে শূন্যস্থানগুলো ইট দ্বারা পূর্ণ করে স্ল্যাব তৈরি করা হয় । এ জাতিয় স্ল্যাবকে আর. বি. স্ল্যাব বলে । এতে নিজস্ব ওজনের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ R.C.C এবং ৫০ ভাগ ইট ধরা হয়ে থাকে ।

৯) আর. সি. সি ওয়ান ওয়ে স্ল্যাব ও টু ওয়ে স্ল্যাবের মৌলিক পার্থ্যক্য কী ?
উত্তরঃ R.C.C One way slab ও tow way slab এর মৌলিক পার্থ্যক্য হলো, One way slab এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাত ২ এর চেয়ে বেশি হবে এবং প্রস্থ বরাবর বিপরীত প্রান্তে সাপোর্ট থাকবে । কিন্তু Tow way slab এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাত ২ এর কম হবে এবং চার কর্ণারে সাপোর্ট থাকবে ।

১০) বিভিন্ন প্রকার আর. সি. সি. ফ্লোর স্ল্যাবের নাম লিখ ?
উত্তরঃ আর. সি. সি. ফ্লোর স্ল্যাবগুলো হল:-
i. একমুখী স্ল্যাব ।
ii. দ্বিমুখী স্ল্যাব ।
iii. ফ্লাট স্ল্যাব ।
iv. রিবেড স্ল্যাব ।
v. আর. বি. স্ল্যাব ।

১১) কখন টু ওয়ে স্ল্যাব ডিজাইন করা হয় ?
উত্তরঃ যখন স্ল্যাবটি বর্গাকার অথবা স্ল্যাবটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২ এর কম হয় সে সমস্ত ক্ষেত্রে দ্বিমুখী স্ল্যাব ডিজাইন করা হয় । এ স্ল্যাবের দু’দিকে স্থাপিত প্রধান রিইনফোর্সমেন্ট চারিদিকে সাপোর্টিং বিম অথবা দেওয়ালের উপর লোড স্থানান্তর করে ।

১২) একমুখী স্ল্যাব কাকে বলে ?
উত্তরঃ যে সমস্ত স্ল্যাব এর প্রস্থ বরাবর বিপরীত প্রান্ত দুটি সমান্তরাল বীমের বা দেওয়ালের উপর অবস্থান করে এবং যে স্ল্যাবে শুধুমাত্র একদিকে প্রধান লোহা ব্যবহার করা হয় তাকে একমুখী স্ল্যাব বলে ।

১৩) একটি আবাসিক ভবনের স্ল্যাব ডিজাইনে কি কি লোড বিবেচনা করা হয় ?
উত্তরঃ একটি আবাসিক ভবনের স্ল্যাব ডিজাইন করতে নিম্নরুপ তিন প্রকার লোড বিবেচনা করা হয়ে থাকে । যথাঃ-
i. নিশ্চল ভার ।
ii. সচল ভার ।
iii. এনভারমেন্টাল লোড ।

১৪) দ্বিমুখী স্ল্যাবের সুবিধাগুলো লিখ ?
উত্তরঃ দ্বিমুখী স্ল্যাবের সুবিধাসমূহ
i. কক্ষের সৌন্দর্য় বৃদ্ধি করে ।
ii. এ স্ল্যাবে কক্ষের মাঝে কোন বিম থাকে না বিধায় সমতল সিলিং পাওয়া যায় ।
iii. কক্ষের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ।
iv. আলোর প্রতিফলনে বাধা সৃষ্টি করে না ।

১৫) আর. সি. সি. স্ল্যাবের জন্য ব্যবহৃত প্রধান রডের নূন্যতম ব্যবধান উল্লেখ কর ?

উত্তরঃ আর. সি. সি স্ল্যাবের জন্য ব্যবহৃত প্রধান রডের নূন্যতম ব্যবধান ২.৫ সেমি. ।

১৬) সচল ভার ও নিশ্চল ভার এর মধ্যে পার্থক্য কী ?
উত্তরঃ যে সমস্ত লোডের মান ও অবস্থান সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং স্থানান্তরযোগ্য তাকে সচল ভার বলে । সাধারনত লোকজন, আসবাবপত্র, অস্থায়ী গুদাম, সঞ্চালনশীল পার্টিশন ইত্যাদি সচল ভারের অন্তর্গত । আর কাঠামোর নিজস্ব ওজন এবং অন্যান্য স্থায়ী ফিক্সারের ওজনের সমষ্টিকে নিশ্চল ভার বলে । যেমন- মেঝের আবরণী, ঝুলন্ত সিলিং, পার্টিশন ওয়াল এবং স্ল্যাবের নিজস্ব ওজন অন্যতম ।

***
১৭) কংক্রিট কাকে বলে ?
উত্তরঃ- সিমেন্ট, বালি, খোয়া নির্দিষ্ট অনুপাতে পানির সংমিশ্রণে তৈরি কৃত্তিম পদার্থকে কংক্রিট বলে । এ জাতীয় কংক্রিটের চাপ সহ্য ক্ষমতা বেশি । তাই যেখানে কংক্রিটকে বেশি চাপ সহ্য করতে হয় সেখানে এটা ব্যবহার করা হয় । যেমনঃ- বেড ব্লক, গ্রাভিটি, রিটেইটিং ওয়াল এবং আর্চ ইত্যাদি ।

১৮) ইমারত নির্মানে কংক্রিট খুব জনপ্রিয় কেন ?
উত্তরঃ- কংক্রিট এর জনপ্রিয়তার কারণগুলো হলঃ-
a) সহযেই যেকোনো আকার আকৃতিতে ঢালাই করা যায় ।
b) ইহা শক্ত, মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী ।
c) চাপ সহ্য ক্ষমতা বেশি ।
d) সহজে আগুন ধরে না ।
e) ইহা শব্দ, তাপ এবং আর্দ্রতা প্রতিরোধক ।

১৯) কংক্রিট কত প্রকার ও কি কি ?
উত্তরঃ- কংক্রিট চার প্রকার । যথাঃ-
a) লাইম কংক্রিট (Lime Concrete)
b) সিমেন্ট কংক্রিট (Cement Concrete)
c) আর. সি. সি কংক্রিট (Reinforced Cement Concrete)
d) প্রি স্ট্রেসড কংক্রিট (Pre-Stressed Concrete)

২০) বিভিন্ন প্রকার কংক্রিট এর উপাদানসমূহ লিখ ?
উত্তরঃ- বিভিন্ন প্রকার কংক্রিটের উপাদান ভিন্ন ভিন্ন । নিন্মে বিভিন্ন প্রকার কংক্রিটের উপাদান উল্লেখ করা হল ।
a) লাইম কংক্রিটঃ লাইম, খোয়া ও পানি ।
b) সিমেন্ট কংক্রিটঃ সিমেন্ট, বালি, খোয়া ও পানি ।
c) রি-ইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিটঃ সিমেন্ট, বালি, খোয়া, মাইল্ড স্টিল রড ও পানি ।
d) প্রি-স্ট্রেসড সিমেন্ট কংক্রিটঃ সিমেন্ট, বালি, খোয়া, হাই টেনসাইল স্টিল ও পানি ।

২১) কংক্রিট কি কি কাজে ব্যবহৃত হয় ?
উত্তরঃ- সিমেন্ট, মোটা দানা উাপাদান, সরুদানা উপাদান এবং পানির সংমিশ্রণের তৈরিকৃত কংক্রিটকে সিমেন্ট কংক্রিট বলে । এটাই প্লেইন কংক্রিট নামে পরিচিত । এ জাতীয় কংক্রিটের চাপ সহ্য ক্ষমতা বেশি । তাই যেখানে কংক্রিটকে বেশি চাপ সহ্য করতে হয়, সেখানে এটা ব্যবহার করা হয় । যেমনঃ- বেড ব্লক, পুরু গ্রাভিটি ড্যাম, গ্রাভিটি রিটেইনিং ওয়ার, কলাম এবং আর্চ ইত্যাদি ।

২২) কংক্রিট প্রস্তুতের ধাপসমূহ কি কি?
উত্তরঃ– i. কংক্রিটের উপাদানগুলোর আনুপাতিকরণ ।
ii. উপাদানগুলোর পরিমাপকরণ ।
iii. উপাদানগুলোর মিশ্রণ তৈরিকরণ ।
iv. কংক্রিট স্থানান্তর ।
v. কংক্রিট স্থাপন ।
vi. কংক্রিট ঘন সন্নিবেশ করণ ।

২৩) ওয়াটার সিমেন্ট রেশিও বলতে কি বোঝায় ?
উত্তরঃ- নির্দিষ্ট পরিমান সিমেন্টের সহিত মিশ্রিত পানির অনুপাতকে ওয়াটার সিমেন্ট রেশিও বলে ।

আজ এখানেই শেষ করলাম। বিদাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here